দক্ষিণ পূর্ব

আওয়ামী লীগের ভুয়া সংবাদ তৈরিতে ক্লড ব্যবহার

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:২২ দুপুর
পঠিত : ৫৪
আওয়ামী লীগের ভুয়া সংবাদ তৈরিতে ক্লড ব্যবহার

ছবি: অ্যানথ্রপিক থেকে নেওয়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার দাবি করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ ‘ডিটেক্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই’ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক সাইবার অপারেশন ও এআইয়ের অপব্যবহারের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছে অ্যানথ্রপিক। এর মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একটি নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

অ্যানথ্রপিকের থ্রেট ইন্টেলিজেন্স টিমের তদন্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ক্লড ব্যবহার করে বাংলায় ভুয়া সংবাদ তৈরির একটি স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করাই ছিল এই নেটওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অ্যানথ্রপিক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা বা অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বিষয়বস্তু কোনো কোনো ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এর পেছনে রাষ্ট্রীয় মদদেরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লডের নীতিমালা ও শনাক্তকরণব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে ওই ব্যক্তি মোট ২৯টি ভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এ জন্য তিনি একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করে ক্লডের এপিআইয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছিলেন।

প্রোগ্রামটি নির্দিষ্ট ব্যাচে কাজ করত। প্রতিটি ব্যাচে ক্লডের মাধ্যমে ১৫টি ভুয়া শিরোনাম, তিনটি বিস্তারিত মিথ্যা সংবাদ এবং ১৫টি ইংরেজি ছবি তৈরির প্রম্পট তৈরি করা হতো।

ক্লডে নিজস্ব ছবি তৈরির সুবিধা না থাকায় এসব প্রম্পট অন্য এআই মডেলে ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদে ব্যবহারের জন্য ছবি ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করা হতো।

অ্যানথ্রপিকের তদন্তে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকার স্বল্পশিক্ষিত মানুষকে লক্ষ্য করে এসব কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। পরে ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটক লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর মিথ্যা অভিযোগ, সাজানো গুপ্তহত্যার ঘটনা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিদেশি চর হিসেবে তুলে ধরে ভুয়া বিবরণী প্রচারের মতো কনটেন্টও ছিল।

এ ছাড়া ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে তৈরি একটি আলাদা স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে ভিডিওগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোডের জন্য এক মাস আগেই সময় নির্ধারণ করে রাখা হতো।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সব অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে তাদের এআই মডেলের নিরাপত্তাব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্য অন্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের সমন্বিত অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: অ্যানথ্রপিক

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।