বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অসুস্থতার কারণে হুইলচেয়ারে বসেই বক্তব্য দেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসাধীন। নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় রাজনৈতিক সভায় অংশ নেওয়ার সময় তিনি স্ট্রোক করেন। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যেতে হয় তাকে।
চিকিৎসা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং শরীরও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি। তারপরও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি সংসদে ফিরেছেন বলে জানান মির্জা আব্বাস। এ সময় আবেগে তার কণ্ঠ বারবার ভারী হয়ে আসে।
বক্তব্যের শুরুতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন মির্জা আব্বাস। একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে।
তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের পর আজ আবার এই কক্ষে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আবেগপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। এটি আমার জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়।’
নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা আব্বাস বলেন, অসুস্থতার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকারের এই আচরণ তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহানুভূতি নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত। তাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না।
সংসদীয় রাজনীতি সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘রাজনীতি শুধু দলীয় পার্থক্য বা রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় নয়; রাজনীতি মূলত মানুষের সেবা করার জন্য। সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার পবিত্র স্থান।’
নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দেন। জীবনের বাকি সময়টুকু নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে অসুস্থতার সময় যারা তার খোঁজ নিয়েছেন এবং দোয়া করেছেন, সেই সহকর্মী সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর সংসদে ফিরে এসে মানুষের কাছে তার একটাই কথা—মানুষের সেবা ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতেই তিনি ফিরে এসেছেন। দেশ ও জাতির সেবায় জীবনের বাকি সময়টুকু উৎসর্গ করতে পারেন, সে জন্য দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
এসআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।