দক্ষিণ পূর্ব

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষ: চবি শিক্ষকসহ দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:০৩ বিকাল
পঠিত : ৩৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কটাক্ষ: চবি শিক্ষকসহ দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে পৃথক ঘটনায় দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত এক শিক্ষার্থীর শাস্তি হাইকোর্টের নির্দেশে পরিবর্তন করে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩ জুলাই ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটি কটাক্ষমূলক পোস্ট দেন। ১১ জুলাই ওই পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগটি অধিকতর তদন্তে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা ও বিদ্রুপ করার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশক্রমে এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ঘটনায় দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কোরবান আলীর গায়ে হাত তোলার ঘটনায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমিকে এর আগে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তার সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তও নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পর হাইকোর্ট স্থায়ী বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। আদালতের নির্দেশে তার শাস্তি কমিয়ে ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি পরিচালনার সময় নির্ধারিত ছয় মাসের মেয়াদ ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে দেওয়া ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।