দক্ষিণ পূর্ব

‘ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে’ : মেয়র শাহাদাত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৬ দুপুর
পঠিত : ৩৬
‘ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে’ :  মেয়র শাহাদাত

ছবি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নগরের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও নাগরিক সচেতনতামূলক অভিযান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, তিন দিনে একদিন জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের নিচে ও নির্মাণাধীন ভবনসহ কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় নগরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকছে। এসব জমে থাকা পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

চসিকের চলমান মশক নিধন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ধোঁয়া ছড়ানোর যন্ত্রের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নগরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মশক নিধনে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্র ফেলা যাবে না। এসব সামগ্রীতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। বাড়ির ছাদ ও আশপাশের ঝোপঝাড়ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের জন্য দেশব্যাপী নেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম নগরীতেও মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, নগরের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও বন্দরসহ কয়েকটি এলাকা ডেঙ্গুর জন্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুতে আর একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারান, সেটিই সবার লক্ষ্য। এ জন্য সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নগরবাসীর পাশে আছে এবং থাকবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাই মিলে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আর 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।