দক্ষিণ পূর্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র শাহাদাত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৫ দুপুর
পঠিত : ৫০
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র শাহাদাত

ছবি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।’ 

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম মহানগরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধান, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করেন মেয়র। সভা শেষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ওষুধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারকি করেন মেয়র।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরে এ কার্যক্রম সফল করতে সিটি করপোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।’

মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য নগরের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ফোম কিংবা ডাবের খোসা ফেলে না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব স্থানে সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি বলেন, শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃষ্টির পর নগরের কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আর 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।