দক্ষিণ পূর্ব

রোগী সেজে চিকিৎসককে গুলি করার হুমকি, ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:২৯ দুপুর
পঠিত :
রোগী সেজে চিকিৎসককে গুলি করার হুমকি, ডেভিড ইমনের ৭ সহযোগী গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ডেভিড ইমনের সাত সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা ও বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে হাটহাজারী ও নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া।

গ্রেপ্তাররা হলেন—হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. মানিক (৪০), নুরুল আলম (৪০), ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০), চিনকদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫) এবং নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন জালালাবাদ এলাকার মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতির প্রস্তুতি, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ আটটি মামলা রয়েছে। মো. মানিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ দুটি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া কামরুল হাসান ওরফে সাগর, মো. রিকু, তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত এবং আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ তিনটি করে মামলা রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলেও ভয় দেখানো হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীকে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, চক্রটির সদস্যরা কখনো রোগী সেজে চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং পরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চাঁদা দাবি করত। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করত তারা।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল মিয়া বলেন, হাটহাজারী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে সন্ত্রাসী রায়হান, বড় সাজ্জাদসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছিল। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে রাসেল মিয়া জানান, সন্ত্রাসীদের নাম ও পরিচয়কে অপকৌশল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিত্তবানদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত চক্রটি। প্রথমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের টার্গেট করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের একটি পৃথক চাঁদাবাজ চক্র গড়ে তুলেছিল। তাদের মূল কৌশল ছিল টার্গেট ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পরে চাঁদা আদায় করা।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।