দক্ষিণ পূর্ব

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার: দুই মাস পর চালু হচ্ছে মহেশখালীর সড়ক উন্নয়ন কাজ

ইমাম উদ্দিন
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০০ দুপুর
পঠিত :
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার: দুই মাস পর চালু হচ্ছে মহেশখালীর সড়ক উন্নয়ন কাজ

কক্সবাজারের মহেশখালীতে কালারমারছড়া থেকে জে.এম. ঘাট পর্যন্ত স্থগিত থাকা সড়ক উন্নয়ন কাজের আইনি বাধা দূর হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পূর্বে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশটি নিষ্পত্তি (‘ডিসপোসড অব স্টে’) করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) পুনরায় তাদের কাজ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। 


জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা (JICA)-এর অর্থায়নে ‘সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (SCRDP)-এর আওতায় ৪.৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরটির উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।


বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) দায়ের করা এক রিট পিটিশনের (নং ৯২৭৫/২০২৬) প্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট সড়কটির ৩.৭০ কিলোমিটার অংশের কাজের ওপর দুই মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, সড়কের অংশটি মহেশখালী পাহাড় মৌজার সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে গেছে। 


তবে সরকারের পক্ষে সিভিল পিটিশন (নং ৩২১৪/২০২৬) দায়ের করা হলে গত ৮ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের ১ নম্বর বেঞ্চ শুনানি শেষে স্থগিতাদেশটি নিষ্পত্তির রায় দেন। উল্লেখ্য, এটি কোনো নতুন সড়ক নয়, বরং বিদ্যমান ইটের সলিং ও মাটির সড়কটির উন্নয়ন কাজ। বন বিভাগের তালিকাতেও উক্ত এলাকাটি সংরক্ষিত বনের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত ছিল না।


পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করেই এই উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হবে বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাহাড় কাটা ও ঢাল নিয়ন্ত্রণে রাখা, পানি নিষ্কাশন নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে গাছ না কাটা এবং কাটা পড়া গাছের বিপরীতে নতুন চারা রোপণসহ মাটি ক্ষয়রোধের বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই প্রকল্পে আরসিসি পেভমেন্ট, ড্রেনেজ, কালভার্ট, পাহাড়ি ঢাল সংরক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।


এই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে কালারমারছড়া থেকে জে.এম. ঘাটের যাতায়াত দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার থেকে কমে মাত্র সাড়ে ৪ কিলোমিটারে চলে আসবে। ফলে কালারমারছড়া ও শাপলাপুরসহ উত্তর মহেশখালীর স্থানীয় অধিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও হাট-বাজারে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গেও স্থানীয়দের সুদৃঢ় যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।


ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।