দীর্ঘ ৪১ দিনের আন্দোলনের পর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজন শিক্ষককে দেওয়ার প্রতিবাদে আবারও এক দিনের শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তাঁরা। আগামীকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রোববার সন্ধ্যায় এক জরুরি বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ায় আজ রোববার তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের দাবি, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে তাঁরা মেনে নেননি। অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন তাঁকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকেই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের একপর্যায়ে গত ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন নতুন উপাচার্য। পরে প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ছাড়ার পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন। গত বুধবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরলেও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা জানান, নিজেদের শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা বিবেচনা করেই তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাঁদের অবস্থান ছিল, নতুন উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ তাঁরা গ্রহণ করবেন না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজন শিক্ষককে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার সব ক্লাস-পরীক্ষার পাশাপাশি রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রমও বর্জন করবেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর নিজেদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। কিন্তু পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই সোমবার শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।