ভিটামিন ডি শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি খাবার থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে এবং হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের নিজস্ব ব্যবস্থায় ভিটামিন ডি তৈরির অন্যতম প্রধান উৎস হলো সূর্যের অতিবেগুনি-বি বা UVB রশ্মি।
তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট ১০ মিনিট রোদে থাকলেই সবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি হবে—এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। প্রয়োজনীয় সময় ব্যক্তি ও পরিবেশভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, উপযুক্ত পরিবেশে প্রায় ৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে UVB রশ্মি তুলনামূলকভাবে কার্যকর থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যসূত্র অনুযায়ী, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে মুখ, হাত ও বাহুর মতো শরীরের কিছু অংশে ১৫ মিনিটের কম সময়ের সংক্ষিপ্ত সূর্যালোক অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরিতে যথেষ্ট হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সময় প্রযোজ্য নয়।
যেসব বিষয়ের ওপর সময় নির্ভর করে
সূর্যের আলো থেকে শরীরে কতটা ভিটামিন ডি তৈরি হবে, তা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
যেমন— ত্বকের রং ও গঠন, বয়স, ঋতু ও দিনের সময়, ভৌগোলিক অবস্থান,আকাশ মেঘাচ্ছন্ন কি না, বায়ুদূষণের মাত্রা, শরীরের কতটুকু অংশ খোলা রয়েছে,সানস্ক্রিনের ব্যবহার
বিশেষ করে গাঢ় ত্বকের মানুষের একই পরিমাণ ভিটামিন ডি তৈরিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ভিটামিন ডি তৈরির সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া শরীর যদি পুরোপুরি কাপড়ে ঢাকা থাকে, তাহলে ত্বকে UVB রশ্মি পৌঁছানোর সুযোগ কমে যায়।
জানালার কাচের ভেতর বসে রোদ পোহালে?
জানালার কাচের ভেতর দিয়ে আসা সূর্যের আলো দেখতে রোদেলা হলেও প্রয়োজনীয় UVB রশ্মির বড় অংশ কাচে আটকে যেতে পারে। ফলে কাচের জানালার পাশে বসে থাকা ভিটামিন ডি তৈরির জন্য কার্যকর সূর্যালোকের বিকল্প নয়।
বেশি রোদ মানেই বেশি ভিটামিন ডি নয়
ভিটামিন ডির জন্য দীর্ঘ সময় প্রখর রোদে থাকাও ঠিক নয়। অতিরিক্ত UV রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য ত্বক পুড়িয়ে ফেলা বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। বরং স্বল্প সময়ের নিরাপদ সূর্যালোক গ্রহণ এবং অতিরিক্ত রোদ থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
যারা নিয়মিত সূর্যের আলো পান না, বয়স্ক ব্যক্তি, গাঢ় ত্বকের মানুষ কিংবা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারণে ভিটামিন ডির ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছেন—তাদের ক্ষেত্রে খাবার বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি রয়েছে কি না, প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে তা নির্ণয় করা যায়।
ভিটামিন ডির অন্যতম সহজলভ্য উৎস সূর্যের আলো হলেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘কত মিনিট’ নিয়ম নেই। সময়, ত্বকের ধরন, বয়স, ঋতু ও পরিবেশ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত ও নিরাপদ মাত্রায় সূর্যালোক গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আর/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।