সুরা আর-রহমানের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো আল্লাহর নেয়ামতকে উপলব্ধি করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে কথা বলা ও নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।
সূর্য, চন্দ্র, আকাশ, পৃথিবী, ফল-ফসল, নদী ও সমুদ্র—সৃষ্টিজগতের প্রতিটি বিষয়ই আল্লাহর অনুগ্রহের নিদর্শন। তাই একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো এসব নেয়ামত চিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং অকৃতজ্ঞতা থেকে বিরত থাকা।
সুরার শুরুতেই ‘আর-রহমান’—অর্থাৎ পরম দয়ালু আল্লাহর কথা উল্লেখ করার পর কোরআন শিক্ষার বিষয়টি এসেছে। এতে কোরআনের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
কোরআন শুধু তিলাওয়াত করার জন্য নয়; এর শিক্ষা বোঝা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাও একজন মুমিনের দায়িত্ব। আল্লাহর দেওয়া হেদায়াতের কিতাব হিসেবে কোরআন মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের পথ দেখায়।
সুরা আর-রহমানে পৃথিবী ও সৃষ্টিজগতের ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আল্লাহ পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করেছেন এবং সৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য স্থাপন করেছেন।
তাই মানুষের দায়িত্ব হলো সেই ভারসাম্য নষ্ট না করা। অন্যায়, জুলুম, সীমালঙ্ঘন এবং পরিবেশের ক্ষতি করা এই ভারসাম্যের শিক্ষার পরিপন্থী। মানুষের কর্মকাণ্ড যেন আল্লাহর সৃষ্টি ও নির্ধারিত ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়।
সুরা আর-রহমানে কিয়ামত ও পরকালের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ ও জিন কেউই আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার বাইরে নয়। দুনিয়ার জীবন শেষে প্রত্যেককে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।
এই বিশ্বাস একজন মুমিনকে দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে গুনাহ, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য সতর্ক করে।
সুরাটিতে আল্লাহভীরু ও সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতের বিভিন্ন নিয়ামতের বর্ণনা এসেছে। এসব বর্ণনার মাধ্যমে মানুষকে সৎকর্মে উৎসাহিত করা হয়েছে।
যারা আল্লাহকে ভয় করে তাঁর আনুগত্য করবে, তাদের জন্য রয়েছে এমন পুরস্কার, যা দুনিয়ার কোনো সুখ-সুবিধার সঙ্গে তুলনীয় নয়। অন্যদিকে, আল্লাহর অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়েছে।
সুরা আর-রহমান মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর দয়া ও নেয়ামত ছড়িয়ে আছে। মানুষ যতই নিজের চারপাশের জগত নিয়ে চিন্তা করবে, ততই আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অনুগ্রহ উপলব্ধি করতে পারবে।
তাই এই সুরার অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো- আল্লাহর নেয়ামত চিনে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা, কোরআনের নির্দেশ মেনে চলা, সৃষ্টিজগতের ভারসাম্য রক্ষা করা, অন্যায় ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং পরকালের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুত হওয়া।
আর
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।