আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের আকাশে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই সেনাকে ‘ভুয়া’ সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পেন্টাগনের কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাত দিয়ে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। আগামী রোববার প্রচারিতব্য সিবিএসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এর নতুন মৌসুমের প্রথম পর্বে ওই সাক্ষাৎকার প্রচারের কথা রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশে মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানে থাকা দুই সেনাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রথমদিকে দুজনই এতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, কার্যত তাদের সাক্ষাৎকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উদ্ধার হওয়া দুই সেনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন। শেষ পর্যন্ত ‘ব্রাভো’ ছদ্মনামে পরিচিত একজন সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হন। তবে ‘আলফা’ নামে পরিচিত অপর সেনা এতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। নিরাপত্তার কারণে এখনো তাদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সিবিএস জানিয়েছে, ‘ব্রাভো’ ওই যুদ্ধবিমানের ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার এবং কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দেড় দিন অবস্থান করার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার অভিজ্ঞতা ও উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে এটিই হবে তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
তবে দুই সেনাকে সাক্ষাৎকার দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পেন্টাগন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল সিএনএনকে বলেন, প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সেনাদের নিজস্ব। কারণ এটি তাদের ব্যক্তিগত গল্প। একই সঙ্গে অপারেশনাল নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের উৎস ও পদ্ধতি সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলেও জানান তিনি।
‘৬০ মিনিটস’-এর সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেল এ প্রতিবেদন তৈরির সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাক্ষাৎকার নেন।
গত ৩ এপ্রিল ইরানের আকাশে মার্কিন বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল ইরানের হাতে ভূপাতিত প্রথম মার্কিন যুদ্ধবিমান।
বিমানটিতে থাকা দুই সেনাই প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পাইলটকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হলেও ওয়েপনস সিস্টেমস অফিসার ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকা পড়েন।
বিমান থেকে নামার সময় তিনি অচেতন হয়ে মাথায় আঘাত পান। ফলে প্রথমদিকে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হয়ে ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নেন।
ইসরাইলি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার হেঁটে একটি পাহাড়ি ফাটলে আশ্রয় নেন। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। এ সময় তাকে উদ্ধারে ব্যাপক বিমান সহায়তা দেওয়া হয়।
আহত ওই সেনা ও উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনতে দুটি মার্কিন পরিবহন বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যন্ত একটি বিমানঘাঁটিতে গিয়ে বিমান দুটি আটকা পড়ে।
ইরানের হাতে বিমান দুটি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে দেয়। পরে বিকল্প বিমানের মাধ্যমে আহত সেনা ও উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়।
তবে সিএনএনের দাবি, পুরো ঘটনাটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমত ও যুদ্ধের বয়ান নিজেদের অনুকূলে গড়ে তুলতে হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।