চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির নগদ ১৫ লাখ টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ মাপার নিক্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা আলমারি থেকে প্রায় ১০ ভরি ৪ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল ও একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স নিয়ে যায়। একই সময়ে প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসার দরজার হুক ও আলমারির তালা ভেঙে ৬০ হাজার টাকা, এক ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং মোবাইল চুরি করা হয়। এ ঘটনায় আলমগীর মিয়া আকবরশাহ থানায় মামলা করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।
অভিযানে ৬ আগস্ট ডবলমুরিং এলাকা থেকে জসিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন কোতোয়ালী এলাকা থেকে সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ও দেবব্রত বণিক ওরফে বলাই বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ আগস্ট মো. ইসমাইল এবং ১৯ আগস্ট ফারজানা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো মতে বাসায় ড্রামের ভেতর চালের মধ্যে পলিথিনে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ মাপার নিক্তি ও একটি স্যামসাং মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালী থানাধীন তাতীবাজার এলাকা থেকে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, একজোড়া কানের দুল ও একটি আংটিসহ মোট সাত ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি স্যামসাং মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেতু দাস, জসিম ও মোস্তাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেএফআই/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।