ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি। বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তিসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই নেতার আলোচনায় ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্প গুরুত্ব পেতে পারে। এ ছাড়া রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করছে। পাশাপাশি ভারতের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সংঘাত অবসানের জন্য পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান মোদি। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদির।
ভারতের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।
সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন পুতিন।
তবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন সি চিন পিং। শনিবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর সামগ্রিক পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই সম্মেলনে যোগ দেবেন।
ব্রিকসের মূল সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব জোটটিতে যুক্ত হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।
এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আর
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।