দক্ষিণ পূর্ব

ভারতে বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩২ দুপুর
পঠিত : ৪৩
ভারতে বিয়ের পাত্রী না পেয়ে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৯ পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়ার বিষয়টি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।তবে এই ২৯টি ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি কেবল বিয়ে না হওয়ার সংকট হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এর পেছনে রয়েছে কর্মসংস্থান, আর্থিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক প্রত্যাশা, পারিবারিক চাপ, জাতপাত এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো একাধিক কারণের জটিল যোগসূত্র।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যার অন্য ঘটনাগুলোর পেছনে মাদকাসক্তি, তীব্র মানসিক হতাশা, পারিবারিক কলহ ও ঋণের বোঝার মতো কারণও উঠে এসেছে।জলগাঁওয়ের গ্রামীণ সমাজে বিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই এখনো ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক অবস্থানের সঙ্গে বেশি জড়িয়ে আছে। বয়স ২৮ বা ২৯ পেরিয়ে গেলেও বিয়ে না হলে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসতে শুরু করে।মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে বিয়েকে যুক্ত করে দেখার প্রবণতার কারণে অনেক অবিবাহিত পুরুষ নিজেদের ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে পাত্রীপক্ষের প্রত্যাখ্যানের মুখে কেউ কেউ গভীর হতাশা ও অসহায়ত্বে ভুগতে পারেন।সরকারি স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্যেও ভারতে অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানের চিত্র পাওয়া যায়। ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অবিবাহিত থাকার হার প্রায় ১১ শতাংশ হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩০ শতাংশ।গ্রামীণ সমাজে একসময় বিয়ের ক্ষেত্রে জমিজমা ও পারিবারিক সম্পদকে বড় মাপকাঠি হিসেবে দেখা হলেও সেই চিত্রও বদলাচ্ছে। এখন সরকারি চাকরি, স্থায়ী মাসিক আয়, শহরে নিজস্ব বাড়ি কিংবা আর্থিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক পাত্রীপক্ষ।ফলে উচ্চশিক্ষিত হয়েও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বেতনে কাজ করা অনেক যুবক বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাখ্যান তাঁদের মধ্যে হতাশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে জাত ও উপজাতির কঠোর সামাজিক সীমানা। গবেষকদের মতে, এসব সীমাবদ্ধতা উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খোঁজার সুযোগ আরও সংকুচিত করে দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—কয়েক দশক ধরে চলা কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রবণতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।কন্যাসন্তানের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় এখন বিয়ের উপযুক্ত নারীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ফলে উপযুক্ত পাত্রী খুঁজতে অনেক পরিবারকে দূরের জেলা কিংবা অন্য রাজ্যেও যোগাযোগ করতে হচ্ছে।এ সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নানা ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী। পাত্রী খোঁজার নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া থেকে শুরু করে প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে নারীদের উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাঁদের প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বেড়েছে। একই সময়ে পুরুষদের ওপর অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চাপও বাড়ছে।চাকরির নিশ্চয়তা, নির্দিষ্ট আয়, নিজস্ব বাড়ি, পারিবারিক দায়িত্ব—সবকিছু মিলিয়ে বিয়ের বাজারে একজন পুরুষের কাছ থেকে প্রত্যাশার তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে।ফলে বিয়ে করতে না পারার বিষয়টি অনেকের ক্ষেত্রে কেবল ব্যক্তিগত হতাশা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সামাজিক মর্যাদা হারানোর ভয়, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।বিশেষজ্ঞদের মতে, জলগাঁওয়ের ২৯টি আত্মহত্যার ঘটনাকে তাই শুধু ‘পাত্রী না পাওয়ার’ ঘটনা হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। এর পেছনে থাকা মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক প্রত্যাশা ও লিঙ্গ-অনুপাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট—সবগুলো বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। আর 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।