দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে স্বামী-স্ত্রীসহ পেশাদার চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:০৪ দুপুর
পঠিত : ৬৬
চট্টগ্রামে স্বামী-স্ত্রীসহ পেশাদার চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকায় দুটি বাসায় চুরির ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ একটি চোর চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরি করা স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জসিম উদ্দিন (৪৫), মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭), সেতু দাস ওরফে সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩), দেবব্রত বণিক (৩৭), মো. ইসমাইল (৩৩) ও ফারজানা বেগম (৩৮)। মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম স্বামী-স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, চক্রটির সঙ্গে গৃহকর্মীসহ স্থানীয় কয়েকজনও জড়িত। চক্রের একদল সদস্য বিভিন্ন বাসা কখন খালি থাকে, সে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে আরেকটি দল সুযোগ বুঝে চুরির ঘটনা ঘটায়।

গত ২৮ জুলাই দুপুরে আকবরশাহ থানার সিটি গেট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে ইপিক হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যান। বাসা থেকে বের হওয়ার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রতিবেশীর ফোনে তিনি জানতে পারেন, তাঁর বাসায় চুরি হয়েছে।

বাড়িতে ফিরে আলমগীর মিয়া দেখতে পান, আলমারি ভেঙে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ দুই লাখ টাকা, ১২ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল এবং একটি আইফোন ১২ প্রো ম্যাক্স নিয়ে গেছে চোরেরা।

একই সময়ে পাশের বাসার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। সেখানে দরজার হুক কাটা এবং আলমারির তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা, এক ভরি আট আনা স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন চুরি হয়।

এ ঘটনায় আলমগীর মিয়া বাদী হয়ে ৩১ জুলাই আকবরশাহ থানায় মামলা করেন।

মামলার পরপরই তদন্তে নামে আকবরশাহ থানা-পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার মোস্তাকিন হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে রয়েছে সাতটি মামলা। এছাড়া সালাউদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি করে মামলা রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনকে এর আগেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে তারা আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপপুলিশ কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালানো হলে একটি ড্রামের ভেতরে চালের মধ্যে পলিথিনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা অর্থ চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া টাকা। একই স্থান থেকে স্বর্ণ মাপার একটি নিক্তি ও একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

পরে মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানকার একটি আস্তানা থেকে দুটি নেকলেস, তিনটি চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও একটি আংটিসহ মোট সাত ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।