দক্ষিণ পূর্ব

শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব নয়, দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৪১ সকাল
পঠিত : ২৩
শুধু রাজনৈতিক বিপ্লব নয়, দেশ গঠনেও ভূমিকা রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি
Degchibarictg

যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের কর্মমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকে কর্মমুখী করতে হবে এবং তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তন আনলেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; পাশাপাশি দেশ গঠনেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এতদিন সংগ্রাম করেছি। এখন আমাদের সংগ্রামটা এই দেশকে নির্মাণ করার জন্য। বিল্ড দিস কান্ট্রি, বিল্ড দিস নেশন।’

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার পথে জাতীয় সংসদ ভবন দেখে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে প্রথম যুব কনভেনশনের আয়োজন করেছিলেন। এরপর যুব মন্ত্রণালয়, যুব অধিদপ্তর ও যুব কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

একই সঙ্গে ক্রিসেন্ট পার্কের দিকে তাকিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের যুবক-যুব নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

যুবসমাজের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনসংখ্যার সবচেয়ে বড় অংশ যুবক। একে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা বলা হয়। এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে দেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যুবসমাজের। তারাই দেশের প্রধান চালিকাশক্তি এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুবসমাজকে মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে উল্লেখ করতেন বলেও স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার যুবকদের দেশ গঠন ও দেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’—এটাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। এমন বাংলাদেশ গড়তে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অগ্রগতির জন্য যুবসমাজের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।

জাতীয় যুব দিবসের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবক ও যুব নারীদের কাজ দেখে তিনি আনন্দিত, উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছেন। স্বল্প পুঁজি নিয়ে কাজ শুরু করে অনেক তরুণ-তরুণী এখন বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছেন এবং বাজার দখল করছেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের কাজের প্রশংসা করেন তিনি।

একজন নারী উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টি তৈরি করে আয় করছেন। সেই আয় দিয়ে তিনি পরিবারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মেয়েকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। বিষয়টি তাঁকে আনন্দিত করেছে।

নিজ এলাকার বেকারত্বের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এলাকায় গেলে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাঁদের বেশির ভাগই বেকার। অনেকে চাকরির জন্য তাঁর কাছে আসেন। এমনকি ক্লিনার পদেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের কাজ না পাওয়ার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দেয়।

বেকারত্ব দূর করতে যুব অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তা ও অন্যান্য কার্যক্রম যথাযথভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর মতো ন্যূনতম মূলধন জোগানো সরকারের দায়িত্ব। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কোম্পানির পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে তাঁরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। দেশে সংসদ গঠিত হয়েছে, নির্বাচন হয়েছে। এখন সব রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে যুবসমাজের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতি হওয়া উচিত এবং সংসদের মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রয়োজনভিত্তিক বা নিড বেইসড করতে হবে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক পাস করেও চাকরি পাচ্ছেন না। অথচ তাঁদের বাবা-মা জমি বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও ভোকেশনাল, টেকনিক্যাল ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।

বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, যা দেশের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং আয় বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী ও সরকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে যুবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কখনোই হতাশ হতে পারি না। আমরা হতাশ জাতি নই। আমরা সব সময় লড়াই করি, সংগ্রাম করি। এই সংগ্রাম আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।