শনিবার (৩১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে ধারাবাহিকভাবে অবরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে গত ৩১ অক্টোবর সাজেক এলাকায় নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় পাহাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাজেকের পর্যটন সড়কসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। তবে অবরোধ চলাকালে পর্যটক, সাধারণ জনগণ, যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সড়কে যানবাহন না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে কমিটি।
এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য চলমান সড়ক অবরোধ শিথিল রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নতুন ঘোষণায় রোববার সাজেক সড়কে আবারও অবরোধ কর্মসূচি পালনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে সাজেকে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, কটেজ-রিসোর্টের মালিক, কর্মচারী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও একের পর এক অবরোধের ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাময়িকভাবে অবরোধ শিথিল বা কর্মসূচি পরিবর্তন নয়, বরং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান জরুরি।
এসআই/
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।