দক্ষিণ পূর্ব

সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে আক্রান্ত ৬৯ জন; অক্টোবরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আশঙ্কা

চট্টগ্রামে ১৭ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১,১৮৪, মৃত্যু ৯

saiful
saiful
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৩ দুপুর
পঠিত : ৪৪
চট্টগ্রামে ১৭ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১,১৮৪, মৃত্যু ৯
Degchibarictg



চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। অথচ বছরের প্রথম আট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২২০ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন। সেপ্টেম্বরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৯ জন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তা কিছুটা কমে আসে। তবে এবার আগস্ট থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই ধারা অক্টোবরেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, থেমে থেমে বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরম এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন, বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৭ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, সিএমএইচে ৩ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১৮ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ২৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি সীতাকুণ্ডে। উপজেলার মোট ১ হাজার ৪৩০ আক্রান্তের মধ্যে সীতাকুণ্ডে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৭ জন। এরপর কর্ণফুলীতে ২১২ জন, বাঁশখালী ও রাঙ্গুনিয়ায় ১০৭ জন করে, রাউজানে ৭৮ জন, আনোয়ারায় ৭৫ জন, পটিয়ায় ৭১ জন, সাতকানিয়ায় ৬৯ জন, লোহাগাড়া ও বোয়ালখালীতে ৫৪ জন করে, মিরসরাইয়ে ৪৫ জন, হাটহাজারীতে ৪৩ জন, চন্দনাইশে ৪১ জন, ফটিকছড়িতে ৩১ জন এবং সন্দ্বীপে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মারা যান ২৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৩২৩ জন, মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৮৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১০৭ জনের। আর ২০২২ সালে আক্রান্ত ৫ হাজার ৪৪৫ জনের মধ্যে মারা যান ৪১ জন।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।