দক্ষিণ পূর্ব

যত্রতত্র ময়লা ফেললে দোকানদারদের জরিমানা দেওয়া হবে: চসিক প্রশাসক

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ১ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৪৫ দুপুর
পঠিত : ২৭
যত্রতত্র ময়লা ফেললে দোকানদারদের জরিমানা দেওয়া হবে: চসিক প্রশাসক
Degchibarictg



চট্টগ্রাম নগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যারিস্টার সোলতান আহমেদ কলেজ রোড পরিদর্শন করে চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে সড়কে পড়ে থাকা খননকৃত মাটি সরানো, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে ডা. শাহাদাত হোসেন এলাকার সড়ক ও নালা-নর্দমার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখেন। এ সময় তিনি বলেন, নগরের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থাকে দোষারোপ করি। কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সচেতন হই না। বিশেষ করে দোকানদারদের প্রত্যেকের নিজস্ব ডাস্টবিন রাখতে হবে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন রাত ১১টায় ময়লা সংগ্রহ করতে গাড়ি নিয়ে আসেন। এরপরও দোকানের সামনে যত্রতত্র ময়লা ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রশাসক বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন খালে উন্নয়ন ও খননকাজ চলায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। খননকাজের মাটি সড়কে পড়ে থাকায় মানুষের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) সড়কে পড়ে থাকা খননকৃত মাটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে নালা থেকে মাটি ও বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

দোকানদার ও এলাকাবাসীর উদ্দেশে ডা. শাহাদাত বলেন, প্রত্যেক দোকানের সামনে একটি করে ময়লা ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো দোকানের সামনে ময়লা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে জরিমানার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। রাস্তা শুধু চলাচলের জায়গা নয়, এরও অধিকার রয়েছে। ডাবের খোসা, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ডেঙ্গু ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।

প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশন নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত ও দুর্ভোগ লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করছে। উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের পাশাপাশি নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতেও সিটি করপোরেশন আন্তরিক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলামসহ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।